1. admin@halishaharnews.com : halishaharnews com : halishaharnews com
  2. varasheba01@gmail.com : Md Sajjad Hossen : Md Sajjad Hossen
কোরআন শরীফের কয়েকটি সূরা ও নামাজের মুখস্থ বিষয়সমূহ - halishaharnews.com - চট্টগ্রাম হালিশহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম - হালিশহর সংবাদ সত্যের সন্ধানে অবিচল
বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০২:০৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
FLAT FOR SELL | চট্রগ্রাম আগ্রাবাদ এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হবে Unique Paribahan: Online Ticket Booking & Counter Number 2022/2023 | Unique Service Paribahan All Counters Number 2022/2023 এস আলম বাস ঢাকা – রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা ২০২২ | S Alam Paribahan এস আলম বাস চট্টগ্রাম সাতকানিয়া, আমিরাবাদ রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা ২০২২ | S Alam Paribahan এস আলম বাস চট্টগ্রাম রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা ২০২২ | S Alam Paribahan এস আলম বাস ঢাকা – চট্টগ্রাম রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা ২০২২ | S Alam Paribahan এস আলম বাস ঢাকা – কক্সবাজার রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা ২০২২ | ঢাকা টু কক্সবাজার বাস ভাড়া 2022 | S Alam Paribahan এস আলম বাস চট্টগ্রাম- ঢাকা রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা ২০২২ | চট্টগ্রাম টু ঢাকা বাস ভাড়া 2022 | S Alam Paribahan এস আলম বাস সকল রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা ২০২২ | S Alam Paribahan সীমান্ত  সুপার ট্রান্সপোর্ট সকল বুকিং অফিস মোবাইল নম্বর সমূহ।




কোরআন শরীফের কয়েকটি সূরা ও নামাজের মুখস্থ বিষয়সমূহ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১

কোরআন শরীফের কয়েকটি সূরা ও নামাজের মুখস্থ বিষয়সমূহ

নামাজ পড়িবার জন্য “সূরায়ে-ফাতিহা’ বা আলহামদু সূরা এবং কোরআন শরীফের অন্ততঃ কিছু আয়াত বা কয়েকটি সূরা অবশ্যই মুখস্থ থাকিতে হয়।

নিম্নে কয়েকটি সূরা, অর্থ ও শানে-নুজুল অর্থাৎ অবতীর্ণ হওয়ার কারণ উল্লেখ করা হইতেছে। সূরা-কেরাতের অর্থ জানা থাকিলে নামাজে অধিকতর একাগ্রতা ও গভীর তন্ময়তা সৃষ্টি হয় এবং নামাজে বিশেষ লজ্জত পাওয়া যায় ।

 

 

=================================

 

 

সূরা ফাতিহা – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ-লামীন । আর-রাহমা-নির রাহীম। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যাক না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈ’ন । ইহদিনাছ ছিরাত্বল মুসতাক্বীম, ছিরাত্বল্লাজীনা আন্ আ’মতা আলাইহিম। গা’ইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্ দ্বা-ললীন | আমীন ।

অর্থ : সমুদয় প্রশংসা আল্লাহ্ তায়ালার জন্য-যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক, পরম করুণাময় এবং অতি দয়ালু; যিনি বিচার-দিবসের অধিপতি । হে আল্লাহ! আমরা তােমারই এবাদত করি এবং তােমারই সাহায্য প্রার্থনা করি । তুমি আমাদিগকে সরল-সােজা পথে চালিত কর, তাঁহাদের পথে-যাহারা তােমার অনুগ্রহ লাভ করিয়াছেন, (নবীদের ও ঈমানদারগণের পথে)। তাহাদের পথে নহে-যাহারা অভিশাপ্ত ও পথভ্রষ্ট (ইহুদী, নাছারা ও কাফের-মুশরেকগণ)।

অবতীর্ণ হওয়ার কারণঃ হযরত রাসূলে করীম (দঃ) যখন হেরা গুহায় অবস্থান করিতেন, তখন কখনও কখনও কেহ যেন অদৃশ্য স্থান হইতে তাহাকে ‘হে মুহাম্মদ, হে মুহাম্মদ” বলিয়া ডাকিতেন । একদা সেই আহ্বান শুনিবার পর স্বগৃহে ফিরিয়া তিনি প্রিয়তমা পত্নী হযরত খাদীজা (রাঃ)-এর নিকট তাহা বিবৃত করিলে, তিনি হযরত (দঃ)-কে সঙ্গে লইয়া তৎকালের বিজ্ঞ ও প্রবীন ঈসায়ী আলেম ওয়ারাকার নিকট গেলেন । ঘটনার বিবরণ শুনিয়া ওয়ারাকা আঁ-হযরত (দঃ) কে বলিলেন, “ইহা শেষ নবীর লক্ষণ। ভবিষ্যতে কখনও যদি আপনি অনুরূপ আহ্বান শুনিতে পান, তবে লাব্বাইকা লাব্বাইকা’ (আমি হাজির আছি) বলিয়া সেই আহ্বানে সাড়া দিবেন।” অতঃপর হযরত নবী-করীম (দঃ) একদা হেরা পর্বতের দিকে যাইতেছিলেন,এমন সময় পথিমধ্যে এক স্থানে অনুরূপ আওয়াজ শুনিয়া ওয়ারাকার পরামর্শ অনুযায়ী উহাতে সাড়া দিলেন। তখন হযরত জিব্রাঈল ফেরেশতা (আঃ) সূরা ফাতিহার ওহী লইয়া উপস্থিত হইলেন এবং নবী-করীম (দঃ)-কে উহা পড়াইয়া গেলেন । -(তাফসীরে খাজেন)

 

 

=================================

 

সূরা নাস – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। মালিকিন্নাস। ইলাহিন্নাস । মিন শাররিল ওয়াস্ ওয়াসিল খান্নাস। আল্লাজী ইউওয়াস্ বিসু ফী চুদূরিন্নাস । মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস।

অর্থঃ (হে মুহাম্মদ (দঃ))! বলুন, মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের মালিকের- মানুষের মাবুদের নিকট আমি জিন ও মানুষ জাতীয় খান্নাস বা কুমন্ত্রণাদাতার, যে মানুষের অন্তঃকরণে ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা দেয়- অনিষ্ট হইতে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি।

এই সূরা নাজিল হওয়ার কারণ সূরা ফালাক্ব’এর সঙ্গে বর্ণনা করা হইবে।

 

 

=================================

 

 

সূরা ফালাক্ব – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ব । মিন শাররিমা খালাক্ব। ওয়া মিন্ শাররি গাসিক্বীন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়া মিন শাররিন্নাফ ফাসাতি ফিল উ’ক্বদ্। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ ।

অর্থ : (হে মুহাম্মদ (দঃ))! বলনু, প্রভাতকালের প্রভুর নিকট-তিনি যাহা কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন, উহার অনিষ্ট হইতে এবং রাত্রি যখন অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে উহার অনিষ্ট হইতে এবং গিরায় ফুঁ দানকারী (যাদুকর মহিলাদের) অনিষ্ট হইতে এবং হিংসুকগণের হিংসা হইতে, যখন হিংসা করে-আমি আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি।

শানে নুজুল : এক ইহুদী রমনীর সহযােগিতায় লবীদ ইবনে আছেম নামক এক ব্যক্তি হযরত রাসূলুল্লাহ্ (দঃ)-এর উদ্দেশ্যে যাদু-টোনা করিয়া তাহাকে ছয়মাস পর্যন্ত রুগ্ন অবস্থায় রাখে। স্ত্রীলােকটি একগাছি চুলে এগারটি মন্ত্র পড়িয়া এগারটি গিরা দিয়া উহাকে একটি কুঁয়ার ভিতর পাথর চাপা দিয়া রাখে । আল্লাহ্ তায়ালা তাঁহার প্রিয় নবীকে এই যাদু-মন্ত্রের সংবাদ জানাইলেন এবং সূরা নাস’ ও সূরা ফালাক্ব’ এই দুইটি সূরা নাজিল করিলেন। দুইটি সূরায় এগারটি আয়াত রহিয়াছে। এক- ১-একটি আয়াত পড়িয়া ফু দেওয়ার সাথে সাথে ঐ চুলের এক-একটি গিরা খুলিয়া যায় এবং নবীজী (দঃ) যাদুর তাছির হইতে মুক্তি লাভ করেন।-(তাফসীরে বায়জাভী)

 

=================================

 

 

সূরা ইখলাস – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণঃ কুল হুওআল্লাহু আহাদ। আল্লাহুছ ছামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ, ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহূ কুফুওয়ান আহাদ্।

অর্থঃ হে মুহাম্মদ! বলুন, আল্লাহ্ এক; তিনি বে-নেয়াজ-কাহারও মুখাপেক্ষী নন; তিনি কাহাকেও জন্ম দেন নাই; আর তিনি কাহারও জাত নহেন; এবং কেহই তাহার সমকক্ষ নহে।

শানে-নুজুল : একদা, একজন মুশরিক হযরত নবী করীম (দঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “আপনার খােদার পরিচয় কি? কি তাঁহার আকৃতি? কি কি বস্তু তিনি পানাহার করেন? কাহার সম্পত্তির তিনি ওয়ারিস আর তাঁহার সম্পত্তিরই বা কে ওয়ারিস হইবে?”-ইত্যাদি। তাহাদের এই জিজ্ঞাসার উত্তরে আল্লাহ তায়ালা তাঁহার নবী (দ)-এর নিকট এই সূরা নাজিল করেন। -(তাফসীরে বায়জাভী; বােখারী)

 

 

=================================

 

 

সূরা লাহাব – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ত্বাব্বাত ইয়াদা- আবী-লাহাবিও ওয়া তাব্বা। মা আগনা-আ’নহু মালুহু-ওয়ামা কাসাব। সাইয়াছলা-নারানজাতা লাহাবিও ওয়ামরাআতুহ, হাম্মা লাতাল হাত্বাব। ফী-জী-দিহা- হাবলু মিম্ মাসাদ্।

অর্থ : আবু-লাহাবের ইহকাল ও পরকাল ধ্বংস হইয়াছে, আর সে নিজেও বরবাদ হইয়া গিয়াছে। তাহার ধন-সম্পদ ও উপার্জিত বস্তু তাহার কোনই উপকারে আসে নাই। আর তাহার লাকড়ীর বােঝা বহনকারিণী স্ত্রী অচিরেই শিখাময় অন্নিতে নিক্ষিপ্ত হইবে; তাহার (স্ত্রীর) গলায় খেজুর পাতার দড়ি, (যাহাতে আটকাইয়া সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে)

শানে নজুল : আবু-লাহাব ছিল হযরত নবী-করীম (দঃ)-এর অন্যতম চাচা-আবদুল্লাহর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা। উম্মে জামীলা তাহার স্ত্রী। তাহারা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই হযরত (দঃ)-এর সাথে ভীষণ দুশমনী করিত; এমনকি তাঁহাকে প্রাণে মারিয়া ফেলার ষঢ়যন্ত্র ও করিত। উম্মে জামীলা কাটা ইত্যাদি কষ্টদায়ক বস্তু সংগ্রহ করিয়া হযরত (দঃ)-এর যাতা আয়াতের পথে ছড়াইয়া রাখিত।

কিছুদিন যাবত গােপনে ইসলাম ধর্ম প্রচার করার পর আল্লাহ তায়ালা হযরত নবী-করীম (দঃ)-কে প্রকাশ্যে ইসলামের বাণী প্রচার করিবার নির্দেশ দিলেন। এই নির্দেশ পাইয়া তিনি নিজের আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্য কুরাইশদের ছাফা পর্বতের প্রান্তদেশে ডাকিয়া সকলের উদ্দেশ্যে বলিলেন, “আমি যদি বলি, পর্বতের অপর দিকে এক দুধর্ষ শত্রুবাহিনী তােমাদরে উপর আক্রমণ করিবার জন্য ওৎ পাতিয়া রহিয়াছে, তােমরা কি তাহা বিশ্বাস করিবে? সকলেই সমস্বরে বলিয়া উঠিল, “কেন বিশ্বাস করিব না। তুমি ত কখনও অবাস্তব কথা বল না । সত্যই এইরূপ কোন বিপদ আসিতেছে নাকি?”

তখন হযরত রাসূলুল্লাহ (দঃ) ফরমাইয়াছেন-
অর্থাৎ, “নিশ্চয়ই আমি তােমাদিগকে আসন্ন কঠোর আজাবের ভয় প্রদর্শন করিতেছি।”

তিনি আরও বলিলেন, “তােমরা যদি এই সকল জড় দেব-দেবীর পূজা ত্যাগ করতঃ এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আন, তবে আল্লাহর পক্ষ হইতে তােমাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য পরম শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত রহিয়াছে।

“হে মুহাম্মদ! তুমি নিপাত যাও, তােমার ধ্বংস হউক; তুমি এই কথা বলার জন্যই আমাদিগকে ডাকিয়া আনিয়াছ।

আবু লাহাবের এই কটুক্তি এবং সে ও তাহার স্ত্রী নবী-করীমের প্রতি যে-সব দুশমনী করিত, উহার পত্যুত্তরে এবং তাহাদের উভয়ের ধ্বংস প্রাপ্তির ভবিষ্যদ্বাণী রূপে আল্লাহ্ তায়ালা এই সূরা নাজিল করেন।

এই সূরা নাজিল হওয়ার কিছুদিন পর একদা আবূ-লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামীলা বন-জঙ্গল হইতে কাটের বােঝা মাথায় করিয়া আনিবার সময় পথিমধ্যে হঠাৎ বােঝাটি মাথা হইতে পড়িয়া যায় এবং উহার দড়িতে তাহার গলায় ফাঁস লাগিয়া
শ্বাস রুদ্ধ হইয়া তাহার মৃত্যু ঘটে, আর এই ভাবে কোরআনের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে প্রমাণিত হয়। -(তাক্সীরে ইবনে কাসীর)

 

 

=================================

 

সূরা নাসর– বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ইযা-জা-আ নাছরুল্লাহি ওয়াল ফাতহু, ওয়ারা আইতান্নাসা ইয়াদখুলূনা ফীদীনিল্লাহি আফওয়াজা। ফাসাব্বিহ্ বিহামদি রব্বিকা ওয়াস তাগপিরহু। ইন্নাহু কা-নান তাওয়্যা-বা ।

অর্থ : যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসিবে, এবং (হে মুহাম্মদ (দঃ)) আপনি লােকদিগকে আল্লাহর ধর্মে প্রবেশ করিতে দেখিবেন, তখন আপনি প্রশংসার সহিত আপনার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন; তিনি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল ।(তওবা কবুলকারী)।

শানে-নুজুল : মুসলমানদের মক্কা-বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহর অসীম সাহায্য ও অনুগ্রহ লাভের আভাস এই সূরায় দেওয়া হইয়াছে এবং নবী-করীম (দঃ)-এর তিরােধানের পরােক্ষ আভাসও এই সূরায় রহিয়াছে। সাদ্য-অবতীর্ণ এই সূরাটি যখন হযরত রাসূলুল্লাহ্ (দঃ) তেলাওয়াত করিয়া শুনাইলেন, তখন হযরত আব্বাস (রাঃ) কাদিতে আরম্ভ করিলেন। নবী করীম (দঃ) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনি কাঁদিতেছেন কেন?” তিনি বলিলেন, “এই সূরায় আপনার ওফাতের ইঙ্গিত বুঝা যাইতেছে।” বাস্তবিকই, ইহার কিছু কাল পর আঁ- -হযরত (দঃ) ওফাত লাভ করেন।- (তাফ্ৰীরে বায়জাভী)

 

 

=================================

 

 

সূরা কাফিরুন – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : কুল্ ইয়া-আইয়্যূহাল কাফিরূন, লা-আ’বুদু মা তা’বুদূন। ওয়ালা আংতুম আ’বিদূনা মা-আ’বুদ। ওয়া লা-আনা আ’বিদুম্ মা-আ’বাতুম । ওয়া লা-আনতুম আ’বিদূনা মা-আ’বুদ। লাকুম্ দীনুকুম অলিয়া দ্বীন ।

অর্থ : বলুন (হে মুহাম্মদ, (দঃ)), হে কাফেরগণ । তােমরা যাহার উপাসনা করিয়া থাক, আমি তাহার উপাসনা করি না; আর আমি যাহার উপাসনা করি, তােমরা তাহার উপাসক নও; এবং তােমরা যাহার উপাসনা কর, আমি তাহার উপাসক নই; এবং আমি যাহার উপাসনা করি, তােমরা তাহার উপাসক নও; তােমাদের জন্য তােমাদের ধর্ম আর আমার জন্য আমার ধর্ম ।

শানে-নুজুল : হযরত রাসূলুল্লাহ্ (দঃ)-কে ইসলাম প্রচার হইতে বিরত করিবার জন্য মক্কার কাফেরগণ সাধ্যমত চেষ্টা করিল, কিন্তু কোনই ফল হইল না দেখিয়া তাহারা হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর মারফত হযরত (দঃ)-এর নিকট আপােষ মীমাংসার ফর্মূলা হিসাবে এই প্রস্তাব পাঠাইল যে, হযরত মুহাম্মদ (দঃ) যদি তাহাদের দেব-দেবীকে মান্য করেন, তবে তাহারা তাহার আল্লাহকে মান্য করিবে এবং তিনি যদি তাহাদের দেব-দেবীর মূর্তিসমূহের পূজা করেন, তবে তাহারাও তাঁহার আল্লাহর এবাদত করিবে । হযরত রাসূলুল্লাহ্ (দঃ) অন্ততঃ এক বৎসরের জন্য হইলেও এই চুক্তিতে রাজী হউন, এই আগ্রহও তাহারা প্রকাশ করিল। তাহাদের এই হীন প্রস্তাবের উত্তরে আল্লাহ্ তায়ালা এই সূরা নাজিল করিলেন। এই সূরা হইতে প্রমাণ হইল যে, মিথ্যার সহিত সত্যের কখনও আপােষ হইতে পারে না।-(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

 

 

=================================

 

সূরা কাওসার – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ইন্না-আ’ত্বাইনা কাল কাওসার। ফাছল্লিলি রব্বিকা ওয়ান-হার। ইন্না শানিয়াকা হুওয়াল আবতার।

অর্থ : (হে নবী!) আমি আপনাকে কাউসার (নামক হাউজ) দান করিয়াছি; অতএব আপনি আপনার প্রতিপালকের (সন্তোষ লাভের) জন্য নামাজ পড়ুন; আপনার শত্রুরাই নিঃসন্দেহে লেজ-কাটা বা নির্বংশ।

শানে নুজুল : হযরত নবী-করীম (দঃ)-এর জীবদ্দশায়ই তাহার পুত্র সন্তানগণ একে একে সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। ইহাতে কাফেরগণ তাহাকে লেজকাটা’ অর্থাৎ অপুত্রক ও নির্বংশ বলিয়া উপহাস করিত এবং তাহার ওফাতের পর তাঁহার কোনও উত্তরাধিকার না থাকায় তাঁহার প্রচারিত ধর্মও দুনিয়ার বুক হইতে বিলুপ্ত হইয়া যাইবে বলিয়া প্রচার করিতে লাগিল। তাহাদের এই আচরণে আঁ-হযরত (দঃ)-এর মনে দুঃখের সঞ্চার হইল। কাফেরদের এহেন উক্তির প্রত্যুত্তরে এবং ফিয়ারা-নবীর মনােযাতনা দূর করিবার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা এই সূরা নাজিল করিলেন।- (তাফসীরে জালালাইন)

 

 

=================================

 

সূরা মাউন – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণঃ আরায়াইতল্লাযী ইয়ুকাযযিবু বিদ্দীন, ফাযালি কাল্লাযী ইয়াদু’উল। ইয়াতীম, ওয়ালা ইয়াহুদ্দু আ’লা ত্বোয়ামিল মিসকীন, ফাওয়াইলুল্লিল মুছাল্লীন। আল্লাযীনা হুম্ আংছালাতিহিম সাহূন। আল্লাযীনা হুম্ ইয়ুরাউনা ওয়া ইয়ামনাউ’নাল মাউ’ন।

অর্থ : (হে নবী!) আপনি কি দেখিয়াছেন ঐ ব্যক্তিকে যে কিয়ামতকে মিথ্যা বলিয়া প্রচার করে? অনন্তর সে ঐ ব্যক্তি, যে এতীমকে ধমক দেয় এবং নিঃস্ব ব্যক্তিকে খাবার দেওয়ার ব্যাপারে অপরকে উৎসাহ দেয় না। অতঃপর ঐ সকল নামাজীর জন্য বড়ই পরিতাপ-যাহারা তাহাদের নামাজে আলস্য করে, যাহারা লােক-দেখানাে নামাজ পড়ে; আর যাহারা নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি অপরকে দিতে অস্বীকার করে।

শানে নুজুল : মক্কার অন্যতম ধনী ব্যক্তি আবু-ছুফিয়ান প্রতি সপ্তাহে গবাদি পশু জবেহ্ করিয়া অন্যান্য কুরাইশ-নেতা ও সাঙ্গ-পাঙ্গদের লইয়া আমােদ-প্রমােদের সহিত উৎসব করিত। একদা সে একটি উট জবেহ করিয়াছিল । এমন সময় একটি এতীম বালক আসিয়া কিছু গােশত ভিক্ষা চাহিলে সে বালকটি সহিত নিষ্ঠুর ব্যবহার করিয়া তাড়াইয়া দেয় ।

তাছাড়া আবু-জেহেল কোন এক এতীম বালকের অভিভাবক ছিল। একদা সেই বালকটির আবু-জেহেলের নিকট সম্পত্তি হইতে কিছু অর্থ চাহিল। তখন আবু-জেহেল তাহাকে কিছুই না দিয়া বরং ধমক দিয়া তাড়াইয়া দিল ।

এই দুইটি ঘটনাকে কেন্দ্র করিয়া আল্লাহ তায়ালা এই সূরা নাজিল করেন । উপরােক্ত ব্যক্তিদ্বয়ের আচরণ যে খুবই খারাপ হইয়াছে এবং কাফের ব্যতীত পরকালে বিশ্বাসী কাহারও পক্ষে এতীমের সাথে এমন দূর্ব্যবহার করা শোভন নয়, এই সূরার মাধ্যমে তাহাই বুঝান হইয়াছে।

 

=================================

 

সূরা কুরাইশ – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণঃ লিঈলাফি কুরাইশিন, ঈলাফিহিম রিহলাতাশ শিতায়ি ওয়াছ ছইফ। ফাল ইয়া’বুদু রব্বা হাজাল বাইতিল্লাজী আত্বআ’মাহুম মিং যূয়ি’ওঁ ওয়া আ-মানাহুম মিন খাউফ।

অর্থ : কুরাইশদের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টির জন্য শীতকালে ও গ্রীষ্মকালে (বাণিজ্য-ব্যাপদেশে) তাহাদের বিদেশ যাত্রায় তাহাদের যে অনুরাগ সৃষ্টি হয়, তাহার জন্য তাহাদের উচিত এই ঘরের (কা’বা শরীফের) প্রভুর এবাদত করা- যিনি তাহাদিগকে ক্ষুধার অন্ন দিয়াছেন এবং (দুশমনের) ভয় হইতে নিরাপত্তা দান করিয়াছেন।

শানে-নুজুল : ব্যবসা-বানিজ্যই ছিল কুরাইশদের জীবিকা অর্জনের উপায়, এই উদ্দেশ্যে তাহারা শীতের মৌসুমে ইয়ামন এলাকায় এবং গরমের মৌসুমে শাম এলাকায় গমন করিত। যেহেতু কুরাইশগণ হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধর, সেইজন্য ইয়ামন ও শাম এলাকার লােকেরা তাহাদিগকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখিত। ফলে তাহারা ঐ সব এলাকায় তেজারতের ব্যাপারে বিশেষ সুবিধা ভােগ করিত।

তাছাড়া, ইয়ামনের খৃষ্টান বাদশাহ আব্রাহাকে ধ্বংস করিয়া আল্লাহ তায়ালা কুরাইশদিগকে দুশমনের হামলার ভয় হইতেও নিরাপদ করিয়াছেন। তাহাদের প্রতি আল্লাহর এত অনুগ্রহ সত্ত্বেও তাহারা মূর্তিপূজা ত্যাগ করিল না তাই কুরাইশদিগকে তাহাদের কর্তব্য সম্পর্কে সতর্ক করিয়া দিয়া আল্লাহ তায়ালা এই সূরা নাজিল করেন। -(তাফসীরে হুছাইনী)

 

=================================

 

সূরা ফীল – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : আলাম তারা কাইফা ফাআ’লা রব্বুকা বিআছহা-বিল ফীল আলাম ইয়াজআ’ল কাইদাহুম ফী-তাদলীল। ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বাইরান আবা-বীল । তারমীহিম বিহিজারাতিম মিন্ সিজ্জীল। ফাজাআ’লাহুম কায়া’ছফিম
মা’কূল।

অর্থ : (হে মুহাম্মদ (দঃ)) আপনি কি লক্ষ্য করেন নাই-আপনার প্রভু হস্তীর অধিপতিবৃন্দের সহিত কিরূপ ব্যবহার করিয়াছেন? তিনি কি তাহাদের চক্রান্তকে ব্যর্থ করিয়া দেন নাই? বরং তিনি তাহাদের প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী পাঠাইয়াছেন; পাখীগুলি তাহাদের প্রতি নিক্ষেপ করিয়াছিল পাথরের টুকরা । এইভাবে তিনি তাহাদিগকে ভক্ষিত তৃণের ন্যায় করিয়া দিলেন ।

শানে-নুজুল : হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর যুগ হইতেই বিভিন্ন দেশের লােকেরা মক্কায় কা’বা শরীফের হজ্জ করিতে আসে। এই উপলক্ষে মক্কার স্থানীয় লােকেরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। তদুপরি কা’বা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হিসাবে কুরাইশরা সর্বত্র এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করে, সকলেই তাহাদিগকে শ্রদ্ধার নজরে দেখে । ইয়ামনের খৃষ্টান বাদশাহ্ আব্রাহা ইহাতে ঈর্ষান্বিত হইল। সে ভাবিল, তাহার দেশের রাজধানী ‘ছানয়া’ শহরে মক্কার কা’বা ঘরের চেয়ে অনেক বেশী সুন্দর করিয়া একটি গির্জা তৈরি করিবে, তারপর তাহারা লােকজনকে মক্কায় না যাইয়া ঐ গির্জায় আসিয়া হজ্জ করিবার আহ্বান জানাইবে। ইহাতে তাহার উদ্দেশ্য ছিল- দেশ-দেশান্তর হইতে প্রতিবছর হাজার হাজার লােক তাহার গির্জায় হজ্জ করিবার জন্য আসিলে তাহারা অবশ্যই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট হইতে নিজেদের প্রয়ােজনীয় সামগ্রী ক্রয় করিবে এবং এইভাবে তাহার শহরটি অর্থনৈতিক দিক হইতে উন্নতি লাভ করিবে । দ্বিতীয়তঃ গির্জার পতিষ্ঠাতা হিসাবে সে বিশ্ববাসীর অন্তরে এক বিশেষ স্থান লাভ করিবে ।

সুতরাং সে বিপুল অর্থব্যয়ে ‘ছায়া’ শহরে এক চমৎকার গির্জা তৈরি করিল । অতঃপর সেই গির্জায় যাইয়া, হজ্জ করার জন্য লােকজনকে আহ্বান জানাইল । কিন্তু কোথায় আল্লাহর ঘর কা’বা, আর কোথায় আব্রাহার গির্জা। লােকেরা
তাহার আহ্বানে সাড়া দিল না। তখন সে লােক-লস্কর নিয়ােগ করিয়া মক্কাপসের যাত্রীদের পথিমধ্য হইতে ধরিয়া নিয়া এবং তাহাদিগকে যথেষ্ট খাতির-সমাদর করিয়া তাহার গির্জার দিকে আকৃষ্ট করিতে চাহিল। ইহাতেও বিশেষ ফল হইল না, বরং তাহার কার্যকলাপে মানুষের মনে অসন্তোষ্ট দানা বাঁধিয়া উঠিল। এমতাবস্থায় আরববাসী নওফেল নামক এক ব্যক্তি একদা তাহার গির্জায় মলত্যাগ করিয়া আসিল। ইহাতে আব্রাহার ক্ষোভ, দুঃখ ক্রোধ আরও বাড়িয়া গেল। সে স্থির করিলঃ কা’বা ঘরটিকে ভাঙ্গিয়া তসনস করিয়া দিলেই তাহার উদ্দেশ্য সফল হইয়া যাইবে। কারণ, লােকেরা তখন বাধ্য হইয়াই তাহার গির্জায় হজ্জ করিতে আসিবে ।

এই দুরভিসন্ধি লইয়া সে অবশেষে অসংখ্য সজ্জিত হস্তী ও অগণিত লােক-লস্কর লইয়া কা’বাঘর ধ্বংস অভিযানে বাহির হইল । কিন্তু আল্লাহর ঘরের হেফাজত আল্লাহই করিলেন। আল্লাহর হুকুমে সমুদ্রোপকুল হইতে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী বিষাক্ত পাথরের টুকরা মুখে করিয়া আব্রাহার বাহিনীর উপর ঝাপাইয়া পড়িল আর প্রস্তর বর্ষণ করিয়া আব্রাহারসহ তাহার লােক-লস্কর ও হস্তীগুলােকে ধ্বংস করিয়া দিল। ইহা হযরত নবী-করীম (দঃ)-এর জন্মের ২৫ দিন পূর্বের ঘটনা। সূরায়ে-ফীল’-এ আব্রাহার উক্ত চক্রান্ত ও তাহার সদল বলে ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়ার ঘটনার প্রতি আলােকপাত করা হইয়াছে।-(তাফসীরে জালালাইন)

 

=================================

 

সূরা হুমাযাহ – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণঃ ওয়াইলুললি কুল্লি হুমাযাতি লুমাযাতিনিল্লাযী জামাআ মালাওঁ ওয়া আদ্দাদাহ্। ইয়াহসাবু আন্না মা-লাহু আখলাদাহ । কাল্লা লাইউমবান্না ফিল হুত্বামাতি ওয়ামা আদরাকা মাল হুতামাহ । নারুল্লাহিল মুকাদাতুল্লাতী তাত্তোআলিউ আলাল আফয়িদাহ। ইন্নাহা-আলাইহিম মু’সাদাতুন ফী আমাদিম মুমাদ্দাদাহ্।

অর্থঃ প্রত্যেক পশ্চাতে নিন্দাকারী ও সম্মুকে দোষারােপকারীর জন্য আক্ষেপ (ওয়াল দোযখ)! যে অত্যন্ত লােভবশতঃ অর্থ জমা করে এবং বার বার গণনা করে। সে মনে করে, তাহার ধন-সম্পদ চিরকাল তাহার কাছে থাকবে। কখনও নয়, তাহাকে হােতামা দোযখে নিক্ষেপ করা হইবে। আপনার কি জানা আছে সে হােতামা কি? তা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি। যা হৃদয়ের উপর উপস্থিত হইবে, নিশ্বয়ই তাহাতে তাহাদেরকে বাধা দেওয়া হইবে লম্বা খামের মধ্যে।

 

=================================

 

সূরা আ’সর – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ওয়াল আ’সরি ইন্নাল ইনসা-না লাফী খুসরিন। ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া আ’মিলুস্সালিহাতি ওয়া তাওয়াসাও বিলহাককি ওয়া তাওয়াসাও বিসসাবরি।

অর্থ : আসরের সময়ের শপথ, নিশ্চয়ই মানুষ অনিষ্ঠের মধ্যে আছে, কিন্তু যারা ঈমান এনেছে এবং ভাল কাজ করেছে ও একে অপরকে হক (সত্য) কাজ করার জন্য এবং ধৈর্য অবলম্বন করার জন্য উপদেশ দিয়েছে (তারা নয়)।

 

 

=================================

 

সূরা তাকাসুর – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : আলহাকুমুত্তাকাসুরু, হাত্তা যুরতুমুল মাকাবির। কাল্লা সাওফা তা’লামুন। সুম্মা কাল্লা সাওফা তা’লামুন। কাল্লা লাও তা’লামূনা ইলমাল ইয়াকীন। লাতারাউন্নাল জাহীম, সুম্মা লাতারাউন্নাহা আইনার ইয়াকীন। সুম্মা
লাতুসআলুন্না ইয়ওমাযিন আনিন্নাঈম।

অর্থঃ প্রাচুর্যের (পার্থিব সম্পদ) গর্ব তােমাদেরকে ভুলিয়ে রাখে। এমনকি তােমরা কবরের সম্মুখীন হও। তাহা পার্থিব সম্পদ কখনও (গর্বের) নয়, তােমরা শীঘ্রই জানিতে পারিবে। আবার বলি, তােমরা তাহা দেখিবে চাক্ষুষ প্রত্যয় সহকারে। অতঃপর অবশ্যই তােমাদেরকে আল্লাহর নেয়ামত সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হইবে।

 

===============================

 

সূরা কারিআহ্ – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : আল- ক্বারেআতু, মাল-ক্বারেআহ্। ওয়ামা আদরাকা মাল-ক্বারিআহ্। ইয়াওমা-ইয়াকূনুন্নাসু কালফারাশিল্ মাবসুস। ওয়া-তাকূনুল জিবলু কালইহনিল মানফূশ। ফাআম্মা মান সাকুলাত্ মাওয়াযীনুহু ফাহুয়া ফী ঈশাতির রাদিয়াহ্। ওয়া আম্মা মান্ খাফফাত্ মাওয়াযীনুহু, ফাউম্মুহু হাবিয়াহ। ওয়ামা আদরাকা মা-হিয়াহ্। নারুন হামিয়াহ্।

অর্থ : মহাপ্রলয়, মহাপ্রলয় কি? মহাপ্রলয় সম্বন্ধে তুমি কি জান? সেইদিন মানুষ হইবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মত এবং পর্বতসমূহ হইবে ধুনিত রঙ্গিন পশমের মত, তখন যার পাল্লা ভারী হইবে সে লাভ করিবে সন্তোষজনক জীবন। কিন্তু যার পাল্লা হালকা হইবে তাহার স্থান হইবে ‘হাবিয়া’। হাবিয়া কি তা তুমি জান? তা জ্বলন্ত অগ্নি ।

 

=================================

সূরা যিলযাল – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ইযা যুলযিলাতিল আরদু যিলযালাহা। ওয়া আখরাজাতিল আরদু অসকালাহা ওয়া কালাল ইনসানু মা লাহা। ইয়াওমাইযিন তুহাদ্দিসু আখবারাহা। বিআন্না রাব্বাকা আওহা লাহা। ইয়াওমাইযিই ইয়াসদুরুন্নাসু আশতাতাল
লিইউরাও আ’মালাহুম্। ফামাই ইয়া’মাল মিসকালা যাররাতিন খাইরাই ইয়ারাহ। ওয়া মাই ইয়ামাল মিসকালা যাররাতিন শাররই ইয়ারাহ।

অর্থঃ যখন পৃথিবী আপন কম্পনে কম্পিত হইবে আর পৃথিবী যখন তাহার বােঝা বাহির করিয়া দিবে এবং মানুষ বলিবে, ইহার কি হইল? সেইদিন পৃথিবী তাহার সব বৃত্তান্ত বর্ণনা করিবে। কারণ তােমার প্রতিপালক তাহাকে আদেশ করিবেন। সেইদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বাহির হইবে যাহাতে তাহারা নিজেদের আমলসমূহ দেখতে পায়; কেউ অণু পরিমাণ সৎ কাজ করিলে তা দেখিবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎ কাজ করিলে তাহাও দেখিবে।

 

================================

সূরা ক্বাদর – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল ক্বাদরি । ওয়া মা আদরাকা মা লাইলাতুল ক্বাদরি । লাইলাতুল ক্বাদরি খাইরুম মিন আল্‌ফি শাহরিন । তানাযযালুল মালায়িকাতু ওয়ারুরূহু ফীহা বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমরিন, সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলায়িল ফাজরি ।

অর্থ : আমি ইহা (কোরআন) অবতীর্ণ করিয়াছি মহিমান্বিত রজনীতে, মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে আপনি কি জানেন? মহিমান্বিত রজনী হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সেই রাত্রে ফেরেশতাগণ ও জিব্রাঈল (আঃ) তাহাদের প্রতিপালকের আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মঙ্গলময় বস্তু নিয়ে। ঊসার আবির্ভাব পর্যন্ত সেই রজনী শান্তিপ্রসূ।

 

=============================

সূরা ত্বিন – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণঃ ওয়াত্তীনি ওয়াযযাইতুন, ওয়া তূরি সিনীনা ওয়া হাযাল্ লাদিল আমীন। লাকাদ খালাকনাল ইনসানা ফী আহসানি তাকবীম। সুম্মা রাদাদনাহু আস্ফালা সাফিলীন। ইল্লাল্লাযীনা আমানূ ওয়া আমিলু সসােলিহাতি ফালাহুম
আজরুন গাইরু মামনুন।

অর্থ : শপথ আনজীর ও যয়তুনের এবং শপথ সিনীনের এবং শপথ এই নিরাপদ নগরীর। আমি সৃষ্টি করিয়াছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে। অতঃপর আমি তাহাকে হীনতাগ্রস্থদের হীনতমে পরিণত করিয়াছি। কিন্তু তাহাদেরকে নয়
যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মপরায়ণ। তাদের জন্য আছে নিরবচ্ছিন্ন পুস্কার । সুতরাং এর পর কিসে তােমাকে কেয়ামতে অবিশ্বাস করে? আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন।আয়া

 

================================

সূরা ওয়াদদোহা – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ওয়াদদোহা, ওয়াল্লাইলি ইযা সাজা । মা ওয়াদ্দাআকা রাব্বুকা ওয়া মা ক্বালা। ওয়া লালআখিরাতু খাইরুল্লাকা মিনাল ঊলা । ওয়া লাসাওকা ইউ’ত্বীকা রাব্বুকা ফাতারদা। আলাম ইয়াজিদকা ইয়াতীমান ফাআওয়া। ওয়া জাদাকা দোআল্লান্ ফাহাদা। ওয়া ওয়াজাদাকা আইলান ফাআগনা। ফাআম্মাল ইয়াতীমা ফালা তাক্বহারআ আম্মাস সায়েলা ফালা তানহার, ওয়া আম্মা বিনি’মাতি রাব্বিকা ফাহাদ্দিস।

অর্থ : সপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর যখন তা হয় নিঝুম, তােমার প্রতিপালক তােমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তােমার প্রতি বিরূপও হননি। তােমার জন্য পরকালই ইহকাল হইতে বহু গুণে শ্রেয়। তােমার প্রতিপালক তােমাকে অনুগ্রহ করিবেন এবং তুমি সন্তুষ্ট হইবে। তিনি কি তােমাকে পিতৃহীন অবস্থায় পাননি; অতঃপর তােমাকে আশ্রয় দান করিয়াছেন, তিনি তােমাকে পান পথহারা, অতঃপর পথ-নির্দেশ করেন। তিনি তােমাকে পান নিঃস্ব অবস্থায়, অতঃপর অভাবমুক্ত করেন। সুতরাং তুমি পিতৃহীনদের প্রতি রূঢ় হইও না এবং সাহায্যপ্রার্তীকে ধমক দিও না। তুমি তােমার পতিপালকের অনুগ্রহের কথা জানিয়ে দাও।

 

==============================

 

সূরা ইনশিরাহ – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : আলাম নাশরাহ লাকা সােয়াদরাকা, ওয়া ওয়াদা’না আনকা বিযরাক। আল্লাযী আনক্বাদা যাহরাক। ওয়া রাফা’না লাকা যিকরাক। ফাইন্না মাআল উসরি ইউসরা । ইন্না মাআল্ উসরি ইউসরা। ফাইযা ফারগতা ফানসাব। ওয়া ইলা রাব্বিকা ফারগাব।

অর্থ : আমি কি তােমার জন্য তােমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দেইনি? আমি লাঘব করিয়াছি তােমার সেই ভার যা আপনার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়াছিল এবং আমি তােমার জন্য তােমার স্তব-স্তুতি সমুন্নত করিয়াছি। কষ্টের সঙ্গেই তাে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই আছে কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি। অতএব যখন অবসর পাও, পরিশ্রম কর এবং তােমার প্রতিপালকের প্রতি মনােনিবেশ কর।

 

===============================

 

সূরা আল লাইল – বাংলা অর্থ সহ

উচ্চারণ : ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা। ওয়ান্নাহারি ইযা তাজাল্লা। ওয়ামা খালাক্বায যাকারা ওয়াল উনসা। ইন্না সা’ইয়াকুম লাশাত্তা। ফাআম্মা মান্ আ’তা ওয়াত্তাকা। ওয়া সাদ্দাকা বিলহুসনা। ফাসানুইয়াসিরুহু লিলইউসরা। ওয়া আম্মা মাম বাখিলা ওয়াসতাগনা। ওয়া কাযযাবা বিলহুসনা । ফাসানুইয়াসসিরুহু লিলউসরা। ওয়ামা ইউগনী আনহু মালুহু ইযা তারাদ্দা। ইন্না আলাইনা লালহুদা। ওয়া ইন্না লানা আল্আখিরাতা ওয়াল ঊলা । ফাআনযারতুকুম নারান তালাযযা । লা ইয়াসলাহা ইল্লাল আশকা। আল্লাযী কাযযাবা ওয়া তাওয়াল্লা। ওয়া সাইউজান্নাবুহাল আতকা। আল্লাযী ইউ’তী মা লাহু ইয়াতাযাককা। ওয়ামা লিআহাদিন ইনদাহু মিন্ নি’মাতিন তুজযা। ইল্লাবতিগাআ ওয়াজহি রাব্বিহিল। আ’লা। ওয়ালা সাওফা ইয়ারদা ।

অর্থ : শপথ রাতের যখন তা সূর্যকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলে। আর দিবসের যখন তা আলােকিত হয়। আর তাঁহার যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করিয়াছেন। নিশ্চয়ই তােমাদের প্রচেষ্টা বিভিন্নমুখী। অতঃপর যে আল্লাহর রাহে দান করিয়াছে এবং আল্লাহকে ভয় করিয়াছে আর ভাল কথা (ইসলাম) বিশ্বাস করিয়াছে, আমি তাহাকে সুখের বিষয়ের (জান্নাতের) জন্য সহজ পথ দান করব। আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে আমি তাহাকে কষ্টদায়ক বস্তু (জাহান্নাম)-এর জন্য অসবাব দান করিব। আর তাহার ধন-সম্পদ কোন কাজে আসিবে না, যখন সে জাহান্নামে পতিত হইবে । বাস্তবিকই আমার দায়িত্ব শুধু রাস্তা দেখাইয়া দেওয়া। আর আমারই আয়ত্তে রহিয়াছে পরকাল ও ইহকাল। অনন্তর আমি তােমাদিগকে এক প্রজ্বলিত অগ্নির ভয় দেখায়াছি। তাহাতে কেবল সেই হতভাগাই প্রবেশ করিবে যে সত্য ধর্ম অবিশ্বাস করিয়াছে এবং তাহা হইতে মুখ ফিরাইয়া রাখিয়াছে। আর তাহা হইতে এমন ব্যক্তিকে দূরে রাখা হইবে, যে অত্যন্ত পরহেজগার। যে নিজ ধন-সম্পদ শুধু
এই নিয়তে দান করে, যেন সে পাক হয় (অর্থাৎ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভই তাহার উদ্দেশ্য। আর তাহার বিষয়ে কারাে কোন এহসান ছিল না যে, তাহার প্রতিদান দিতে হয় নিজের মহােন্নত প্রভুর সন্তুষ্টি সাধন ব্যতীত, আর অতি সত্বর সে সন্তুষ্ট হইয়া যাইবে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ







© All rights reserved © 2020 Halishaharnews.com Abouet Privacy Policy Contact us
Design & Development By Hostitbd.Com